ঢাকাশুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেব্রুয়ারিতে তিন পথে ৪৮৮ দুর্ঘটনা, নিহত ৪৭৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৬, ২০২৬ ৩:২৩ অপরাহ্ণ । ৬৭ জন

ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এ সময়ে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৩.৭০ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী ও ৫৫ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু ও ৪৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

যানবাহন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৬৮৭টি যানবাহনের মধ্যে ২৬.৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৭২ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫.২৮ শতাংশ বাস, ১৪.২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এবং ৪.৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪১.৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়িচাপা, ৩৩.২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭.১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে এবং ১.১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া দুর্ঘটনার ৪২.৬৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৫.৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, উল্টোপথে যান চলাচল এবং বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোকে দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।