ঢাকারবিবার , ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত:

পেঁয়াজের দাম না কমলে আমদানি অনুমোদন দেবে সরকার: বাণিজ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ৯, ২০২৫ ৪:৩০ অপরাহ্ণ । ৭২ জন

পেঁয়াজের বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না এলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।

রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা বলেন, “সম্প্রতি পেঁয়াজের দামে যে উস্ফালন ঘটেছে, সেটির ওপর আমরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছি। বাণিজ্য সচিব কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই মনে আছে, কিছুদিন আগে পেঁয়াজের দাম ৩৫-৪০ টাকায় নেমে এসেছিল, যা কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে। গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে।”

পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ আছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের মনে হয় পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। কৃষি মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে ১০ হাজার হাই ফ্লো মেশিন বিতরণ করেছে, যা সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে।”

বর্তমানে সরকারের কাছে ২ হাজার ৮০০-এর মতো আমদানির আবেদন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই আবেদনগুলোর ১০ শতাংশও যদি অনুমোদন দিই, বাজারে ধস নামবে। আমরা ধস চাই না, বরং স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি চাই-যেখানে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তেমনি ভোক্তার কষ্টও কমবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাই। দাম যদি না কমে, আমদানি অনুমোদন ইস্যু করব। কিন্তু দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে আমদানির প্রয়োজন হবে না।”

দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “মৌসুমের শেষ সময়ে শুকিয়ে পেঁয়াজের ওজন কমে গেছে। আবার যারা হাই ফ্লো মেশিনে সংরক্ষণ করছেন, তাদের ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে। এই সব কারণেই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।”

তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়ানোর কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানান শেখ বশিরউদ্দীন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি কোথাও সিন্ডিকেটের প্রমাণ পান, দয়া করে আমাদের জানান।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়। এমন কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটেনি যা এই বৃদ্ধি ন্যায্যতা দেয়।”

বাণিজ্য সচিব এসময় জানান, “কৃষি সচিবের তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশে সাড়ে তিন লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ মজুত আছে। এ মাসের মধ্যে আরও ৮৫ থেকে ৮৭ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী মাসে আড়াই লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তাই পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই।”

উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমরা চাই বাজারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকুক। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করেই ভোক্তার স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”