দেশের অন্যতম ধান–চাল উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় আমন ধান কাটা–মাড়াই শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। সাধারণত এ সময়ে চালের দাম কমার কথা থাকলেও উল্টো গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে সরু চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও, যেখানে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, চালের বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই দাম বাড়ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে চালকল মালিকরা বলছেন, মৌসুম শেষ হওয়ায় পুরাতন ধানের সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে সরু চালের দামে। তবে মোটা চালের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরু চাল হিসেবে পরিচিত জিরাশাইল ও কাটারি জাতের চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে জিরাশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭২ টাকা এবং কাটারি চাল ৭২ থেকে ৭৪ টাকায়।
খুচরা বাজারে জিরাশাইল চাল মানভেদে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৬ টাকায়। কাটারি জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। তবে মোটা জাতের চাল আগের মতোই কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাল কিনতে আসা আজগর আলী বলেন, আগের তুলনায় সরু চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে, যা খুবই হতাশাজনক। আমাদের আয় বাড়ে না, শুধু নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। এগুলো সব সিন্ডিকেটের কারসাজি।
নওগাঁ পৌর এলাকার ক্ষুদ্র চাল বাজারের লক্ষ্মী চাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী উত্তম সরকার বলেন, সরু জাতের চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকারিতে প্রতি বস্তায় বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। তবে মোটা চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, বর্তমানে ইরি–বোরো ধানের চাষ শুরু হয়েছে। আমন মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে পুরাতন ধানের সরবরাহ কমেছে। এ কারণেই পাইকারি বাজারে সরু চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে।


