ঢাকারবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

দেশের ৩০ উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ । ৪২ জন

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি নির্বাচিত উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখন পর্যন্ত এটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আগেভাগেই পদক্ষেপ নিয়েছি, যাতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে না পড়ে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার

মন্ত্রী জানান, বরগুনা, পাবনা, চাঁদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, যশোরসহ মোট ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে—

বরগুনা (পৌরসভা ও সদর), পাবনা (পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (পৌরসভা ও সদর, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (পৌরসভা ও সদর), নাটোর (সদর), মুন্সীগঞ্জ (পৌরসভা ও সদর, লৌহজং), মাদারীপুর (পৌরসভা ও সদর), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি) এবং শরীয়তপুর (জাজিরা)।

টিকার পাশাপাশি ভিটামিন-এ

টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রেই ভিটামিন-এ দেওয়া হবে।

আগে টিকা নিলেও আবার দেওয়া যাবে

অনেক অভিভাবকের মনে থাকা একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা নেওয়া থাকলেও এই বিশেষ কর্মসূচিতে আবারও টিকা নেওয়া যাবে। একাধিকবার এই টিকা নিলেও শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ঝুঁকি তৈরি হয় না।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা না নিলে শিশুদের মধ্যে জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান

সরকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে। সামান্য অবহেলা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সার্বিকভাবে, হামের সংক্রমণ রোধে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সময়মতো সঠিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট এড়ানো সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।