ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন দশক পর কমল বিমানবন্দরের সারচার্জ, এয়ারলাইন্সগুলোকে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৫, ২০২৬ ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ । ৩১ জন

প্রত্যাশার তিন দশক পর বাংলাদেশে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে কমানো হয়েছে বার্ষিক সারচার্জের পরিমাণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি টেকসই এভিয়েশন শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, সারচার্জ কমানোর ফলে তাদের টিকে থাকা সহজ হবে।

বিদেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতীয় বিমানবন্দরে রানওয়ে ব্যবহার, কন্ট্রোল রুম, বিমান পার্কিং ও টার্মিনাল সুবিধার জন্য বার্ষিক সারচার্জ ১২–১৮%, ওমানে ১০%, সিঙ্গাপুরে ৮% আর পাকিস্তানে মাত্র ২%। সেখানে বাংলাদেশে সারচার্জ ৭২% ছিল। এই উচ্চ সারচার্জের কারণে দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে এবং বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি এয়ার সংস্থা।

২০২৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি আমলে নেন। বিমান মন্ত্রণালয় বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সাতটি বিমানবন্দরে সারচার্জ এক ধাপে ৭২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪.২৫ শতাংশ করা হয়। এয়ারলাইন্সগুলো মনে করছে, এর ফলে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “গত ২৯ বছর ধরে আমরা সারচার্জ কমানোর দাবি করেছি। বিগত সরকারের কেউ আমাদের কথা শুনেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সুযোগ দিয়েছে। সারচার্জ কমার ফলে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং এয়ারলাইন্সের স্থায়ীত্ব বাড়বে।”

সারচার্জের অতিরিক্ত পরিমাণ থাকলে প্রতিমাসে অতিরিক্ত ৬% অর্থ গুণতে হতো এবং বছর শেষে হিসাবের খাতায় যোগ হতো ৭২%। বিশেষজ্ঞরা জানান, এভিয়েশন শিল্প সম্প্রসারণে বড় বাধা ছিল এই অতিরিক্ত অর্থ।

দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “অনেক বড় এয়ারলাইন্স যেমন জিএমজি, ইউনাইটেড এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রধান কারণ ছিল সারচার্জ। এত বড় পরিমাণ সারচার্জ অনেক এয়ারলাইন্সের পক্ষে বহনযোগ্য ছিল না। তাই সারচার্জ কমানো দেশের বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”

নতুন সিদ্ধান্ত চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে। তবে সারচার্জ কমলেও টিকিটের দামে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কাজী ওয়াহিদুল আলম আরও জানান, সিভিল এভিয়েশন চার্জেস কমানোর ফলে এয়ারলাইন্সগুলো কিছুটা স্বচ্ছল হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচকের কাছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মোট বকেয়া ৭,৩৫১ কোটি টাকা, যার প্রায় ৭৮ শতাংশই সারচার্জের অর্থ।