ঢাকাবুধবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

চুয়াডাঙ্গায় এক দশকে আবাদি জমি কমেছে ৫ হাজার হেক্টর

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ । ১৬৮ জন

চুয়াডাঙ্গা জেলায় আবাদি কৃষিজমির পরিমাণ দ্রুত কমছে। গত এক দশকে জেলায় অন্তত ৫ হাজার ২৬১ হেক্টর মাঠ ফসলের জমি হারিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জেলার আবাদি জমি ছিল ৯৯ হাজার ৪৮১ হেক্টর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ৯৪ হাজার ২২০ হেক্টরে। গড়ে প্রতি বছর প্রায় ০.৭২ শতাংশ হারে কৃষিজমি কমছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিজমি হ্রাসের প্রধান কারণ হলো কংক্রিটের দালান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও ইটভাটা নির্মাণ। কৃষকদের অভিযোগ, জমির দাম ও রেজিস্ট্রেশন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এক শ্রেণির লোকজন কৃষিজমি দখল বা ক্রয়ের মাধ্যমে তা নষ্ট করছে। এর ফলে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে, কৃষি পরিবেশ ও জলবায়ুতেও পড়ছে বিরূপ প্রভাব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলতদিয়া-আলুকদিয়া সড়কের দুই পাশে একসময় দিগন্তজোড়া ধানক্ষেত থাকলেও বর্তমানে অর্ধেকের বেশি জমি দখল হয়ে গেছে দালানকোঠা ও বাণিজ্যিক স্থাপনায়। কোথাও কলকারখানা, কোথাও ইটভাটা, আবার কোথাও বহুতল ভবন উঠে দাঁড়িয়েছে।

সদর উপজেলার কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, “আগে এই মাঠে ধান, সবজি, তুলা হতো। এখন ঘরবাড়ি আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উঠেছে। কৃষিজমি না থাকায় চাষাবাদও কমছে।”

কৃষক কাশেম আলী বলেন, “কয়েক বছরের মধ্যে চোখের সামনে উর্বর জমি নষ্ট হয়ে গেল। আগে ধান, মাসকলাই, পেঁয়াজসহ নানা ফসল হতো। এখন শুধু বিল্ডিং।”

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “আবাদি জমি কমে গেলে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে। আমরা লক্ষ্য করেছি ধানক্ষেতের জায়গায় কলকারখানা ও দালান উঠছে। তবে কৃষকদের সচেতন করছি জমি রক্ষা করতে।”

তিনি জানান, জমি কমে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একই জমিতে বছরে ৩/৪ বার চাষ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞ ও কৃষকদের মতে, চুয়াডাঙ্গায় আবাদি জমি কমে যাওয়ার এই প্রবণতা খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষির ভবিষ্যৎ এবং পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। তাদের দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় কড়া আইন প্রয়োগ এবং অনিয়ন্ত্রিত জমি বিক্রি বন্ধ করা জরুরি।